সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা

  • আপলোড সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ১২:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ১২:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন
অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা
মোহাম্মদ নূর::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের জোয়ালভাঙা হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ১১ ও ১২ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) অধীনে নির্মিত এই বাঁধে পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না রাখায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত একর বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।
রবিবার ভোরে জমিতে গিয়ে কৃষকরা দেখেন, বৃষ্টির পানিতে তাদের ক্ষেত ডুবে গেছে। বাঁধের কারণে পানি বের হওয়ার কোনো পথ না থাকায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রশাসনের সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে সকাল থেকেই মোহনপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের কয়েকশ কৃষক কোদাল ও দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে মাঠে নামেন। ফসল রক্ষার তাগিদে তারা নিজ উদ্যোগে বাঁধের কয়েকটি স্থানে নালা কেটে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় এবং সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল। কৃষকদের দুর্ভোগ দেখে তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণ করা শুধু নিয়মবহির্ভূত নয়, কৃষকদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। অদূরদর্শী ও পরিকল্পনাহীন প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে আজ হাজারো কৃষকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা অবিলম্বে দায়ী পিআইসি কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি এবং দ্রুত সরকারিভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের সময় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ, নালা ও পাইপ ছাড়াই মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। এতে বৃষ্টির পানি আটকে হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাঁধ নির্মাণের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সঠিক নিয়মে মাটি ভরাট ও দুর্মুজ না করায় নির্মাণের কয়েক দিনের মধ্যেই বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে সামান্য পাহাড়ি ঢল এলেই বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক মহিম উদ্দিন বলেন, বাঁধ দেওয়া হয়েছিল ফসল রক্ষার জন্য, কিন্তু এই পরিকল্পনাহীন বাঁধই এখন আমাদের ডুবিয়ে মারছে। দ্রুত পানি না সরালে পরিবার নিয়ে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স